দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সারাদিনের ক্লান্তি শেষে সন্ধ্যা নামলেই মাগুরার বাঁশকোটা গ্রামের মেঠোপথে শুরু হয় অন্যরকম এক অপেক্ষা। ছোট্ট দোকান ঘিরে জমতে থাকে মানুষের ভিড়। কড়াই থেকে একের পর এক উঠে আসে গরম, মচমচে সিঙ্গাড়া। দাম মাত্র পাঁচ টাকা, অথচ স্বাদে যেন জাদু! দুঃখি রামের হাতের এই সিঙ্গাড়ার টানে প্রতিদিন ছুটে আসেন শত শত ভোজনরসিক। স্থানীয়দের ভালোবাসায় পাঁচ টাকার এই সিঙ্গাড়ার নামই এখন ‘সুখি সিঙ্গাড়া’—যার এক কামড়েই যেন দূর হয় সারাদিনের ক্লান্তি।
মা এবং মেয়ে সিঙ্গাড়া তৈরি করে বাবা সিঙ্গাড়া ভাজেন এবং পরিবেশন করেন। সিঙ্গাড়া কেটে মরিচ, পেঁয়াজ, ধনেপাতা এবং পেঁপের কুচির সালাদের উপরে সসের মিশেলে সিঙ্গাড়ার সাদ কে বাড়িয়ে তোলে। বাঁশকোটা গ্রামের দুঃখি রামের ‘সুখি সিঙ্গাড়া’ ৫ টাকার জাদুতে জমে ওঠে সন্ধ্যার আড্ডা!

শহর থেকে খেতে আসা যুবক মো. আশিক বলেন, এত অল্প টাকায় এত সুস্বাদু খাবার পাওয়া এবং খাওয়াটা খুবই কঠিন। এখানে আমরা প্রায় আসি খেয়ে তৃপ্তি পায় এবং সময়টা খুবই উপভোগ্য হয়। এই দোকানের সব থেকে দারুণ বিষয় হচ্ছে সিঙ্গারা কেটে সালাদ দিয়ে পরিবেশন করে যার জন্য সাধটা বেড়ে যায় অনেক গুণ।
মাত্র ৫ টাকায় মিলছে এমন এক স্বাদ, যা নিতে প্রতিদিন সন্ধ্যায় ভিড় জমাচ্ছেন শত শত ভোজনরসিক। মাগুরা জেলার বাঁশকোটা গ্রামের বাসিন্দা দুঃখি রামের হাত ধরে গত ৬ বছর ধরে চলছে এই স্বাদ ও স্বপ্নের যাত্রা। অভাবের দিনগুলোকে পেছনে ফেলে তার বানানো বিশেষ সিঙ্গারা আজ শুধু পেটই ভরাচ্ছে না, ছড়িয়ে দিচ্ছে তৃপ্তির হাসি তাই স্থানীয়রা ভালোবেসে এর নাম দিয়েছেন ‘সুখি সিঙ্গাড়া’।
নিয়মিত এক প্রবীন ক্রেতা নারায়ন মন্ডল বলেন, দুঃখি রামের এই বিশেষ সিঙ্গাড়ার চাহিদা কতটা ব্যাপক, তা বোঝা যায় দোকানের বিক্রির হিসাব দেখলে। প্রতিদিন কেবল সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা এই অল্প কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়। আমি প্রতিদিন ৫ টা সিংগাড়া খায় এবং বাসার জন্য নিয়ে যায়। এই সিংগাড়া খেয়ে আমার সারাদিনের সকল ক্লান্তি দুর হয়ে যায়।

দুঃখি রাম প্রতিদিন ৭০০০ থেকে ১০০০০ পিস সিঙ্গারা। তবে শুক্রবার ও শনিবার ১০০০০ থেকে ১২০০০ পিস সিংগাড়া বিক্রি হয়। ৬ বছর আগে ছোট পরিসরে শুরু করলেও, দুঃখি রামের হাতের জাদুকরী রেসিপি আর সাধ্যের মধ্যে সেরা মানের কারণে খুব অল্প সময়েই এই দোকানটি পুরো এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় যুবক সাগর মিয়া বলেন, খাঁটি মসলার সঠিক মিশ্রণ, মচমচে খামির আর মাত্র ৫ টাকা দামে এত দারুণ স্বাদ অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। বাঁশকোটা গ্রামের মেঠো পথের ধারের এই ছোট্ট দোকানটি এখন মাগুরার এক জনপ্রিয় খাদ্য-ঠিকানা। জীবনের সব দুঃখ ভুলে দুঃখি রাম যেভাবে মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে চলেছেন, তার এই ‘সুখি সিঙ্গাড়া’ সত্যিই অনুপ্রেরণার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

সুখি সিঙ্গাড়ার সত্ত্বাধিকারী দুঃখি রাম বলেন, এখানে ৫ টাকার সিঙ্গাড়া সব থেকে বেশি পছন্দ ক্রেতাদে তবে এর বাইরে ডিমের সিঙ্গারা তৈরি করি। ২০ থেকে ৩০ টা সিঙ্গাড়া দিয়ে শুরু করেছিলাম আজ ১,২০০ সিঙ্গারা বিক্রি করি। সন্ধ্যার পরে যে পরিমাণ মানুষ এখানে আসেন বসা বা দাড়ানোর ব্যবস্থা নেই, চেষ্টা করব খুব দ্রুত এখানে বসার সুব্যবস্থা করবো।
জীবনের হাজারো টানাটানি আর অভাবকে জয় করে দুঃখি রাম আজ মাগুরার মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল নাম। তার হাতের এই ‘সুখি সিঙ্গাড়া’ শুধু মানুষের পেটই ভরাচ্ছে না, ছড়িয়ে দিচ্ছে জীবনকে ইতিবাচকভাবে জয় করার বার্তা।
কেএম